জন্ম নিবন্ধন অনলাইন করার নিয়ম | bdris gov bd 2024

হাতে লেখা জন্ম নিবন্ধন অনলাইন করার নিয়ম

জন্ম নিবন্ধন অনলাইন করার নিয়ম  bdris gov bd 2024


আসসালামুয়ালাইকুম আশা করছি সকলে ভালো আছেন। আপনারা সকলেই জানেন প্রথম অবস্থায় জন্ম সনদ হাতে লিখে প্রদান করা হতো। জন্ম নিবন্ধনের একটি নির্দিষ্ট ফর্ম ছিল, সেই ফর্মে আবেদন করীর জন্ম তথ্য হাতে লিখে সেই ফর্মে চেয়ারম্যানের স্বাক্ষরসহ প্রয়োজনীয় সিল বসিয়ে আমাদেরকে একটি হাতে লেখা জন্ম সনদ প্রদান করা হতো।বর্তমানে আপনি যদি সরকারি বা অফিশিয়াল কোন কাজে আপনার হাতে লেখা সেই জন্ম সনদটি প্রদান করেন তাহলে তা কিন্তু গ্রহনযোগ্য হবে না। কারণ বর্তমানে ডিজিটাল জন্ম সনদ প্রদান করা হচ্ছে ও সব ক্ষেত্রে গ্রহনও করা হচ্ছে। আপনারা অনেকেই জানতে চেয়েছিলেন কিভাবে আপনি ঘরে বসেই আপনার যে অ্যানালগ জন্ম সনদ রয়েছে সেই অ্যানালগ জন্ম সনদটি ডিজিটাল বা অনলাইন করবেন। তাই আজকের আর্টিক্যালে আমরা জানতে চলেছি কি কি স্টেপ ফলো করে ও কত সময়ের মধ্যে আপনি আপনার এনালগ জন্ম সনদটি ডিজিটাল করে নিতে পারবেন।
হাতের লেখা জন্ম নিবন্ধন ডিজিটাল করার জন্য আপনি চাইলে ঘরে বসে অনলাইনে আবেদন করতে পারেন। অথবা চাইলে সরাসরি নিবন্ধকের কার্যালয়ে গিয়েও আবেদন করতে পারেন। কিন্তু সেখানে অনেক ভিড়ের সম্মুখীন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে, যদি আপনি বাড়ি থেকে অনলাইনে আবেদনের কাজটি শেষ করে, কেবল প্রয়োজনীয় কাগজগুলো নিয়ে নিবন্ধকের কার্যালয়ে গিয়ে জমা দেন। এর ফলে আপনার মুল্যবান সময় ও কষ্ট দুটোই বেচেঁ যাবে। চলুন এবার মূল আলোচনায় যাওয়া যাক।

হাতে লেখা জন্ম নিবন্ধন অনলাইন করতে যা যা লাগবেঃ

  • ইন্টারনেট কানেকশন সহ একটি মোবাইল বা কম্পিউটার।
  • হাতে লেখা বা এনালগ জন্ম নিবন্ধন কার্ড।

ধাপ -১ঃ ওয়েব সাইটে প্রবেশ

হাতে লেখা জন্ম নিবন্ধন কার্ডটি ডিজিটাল করার জন্য সর্ব প্রথম আপনার মোবাইল ফোনের ক্রোম ব্রাউজারটি ওপেন করুন। সার্চ বারে টাইপ করুন bdris.gov.bd অথবা এখানে চাপুন। চাপ দেওয়ার পর নিচের ছবির মত একটি ওয়েবসাইটে আপনাকে প্রবেশ করানো হবে। 


সেখানে দেখতে পাবেন “জন্ম নিবন্ধন” নামে একটি অপশন রয়েছে। জন্ম নিবন্ধনে ক্লিক করুন এবং জন্ম নিবন্ধন সনদ পুনমুদ্রন এই অপশনটিতে ক্লিক করুন। 


ধাপ -২ঃ জন্ম নিবন্ধন নাম্বার ও জন্ম তারিখ প্রদান ও অনুসন্ধান

অপশনটিতে ক্লিক করার পরে নিচের ছবির মত একটি পেইজ ওপেন হবে। সেই পেইজে জন্ম নিবন্ধন নাম্বার ঘরে আপনার ১৭ ডিজিটের জন্ম নিবন্ধন নাম্বার এবং জন্ম তারিখ ঘরে আপনার জন্ম তারিখ প্রদান করুন। এরপর অনুসন্ধান বাটনে ক্লিক করুন। 


অনুসন্ধান বাটনে ক্লিক করলেই দেখবেন নিচে আপনার নাম, পিতার নাম এবং মাতার নাম দেখাবে। এবার নির্বাচন করুন এ অপশনটিতে ক্লিক করুন।


এখন প্রশ্ন হতে পারে যে, যদি আপনার হাতে লেখা জন্ম নিবন্ধনের নাম্বারটা প্রদান করার পর কোন তথ্য না দেখায় বা যদি সার্ভারে আপনার জন্ম সনদের কোন তথ্য খুজে পাওয়া না যায় তাহলে কি করবেন? সেক্ষেত্রে আপনি ঘরে বসে আপনার আবেদনটি সম্পন্ন করতে পারবেন না। আপনাকে আপনার হাতে লেখা জন্ম সনদটি নিয়ে সরাসরি নিবন্ধকের কার্যালয়ে যেতে হবে এবং তারাই আপনার আবেদনটি করে দিবে। 
যাই হোক, যদি আপনার তথ্য সার্ভারে দেখায় তাহলে বাকি প্রক্রিয়া গুলো কিভাবে সম্পন্ন করবেন সেটা নিয়ে আলাপ করা যাক।
নির্বাচন করুন নামক বাটনে চাপ দেওয়ার পরে নিচের ছবির মত একটি পপআপ দেখাবে যাতে লেখা থাকবে “আপনি কি নিশ্চিত?” এবং তার ঠিক নিচেই কনফার্ম” ও “বাতিল” নামে দুইটি অপশন থাকবে। “কনফার্ম এ ক্লিক করুন।


কনফার্ম অপশনে ক্লিক করার পরই দেখবেন নিচের পেইজটির মত কিছু অপশন আপনার সামনে খুলে যাবে। 

ধাপ -৩ঃ নিবন্ধন কার্যালয়ের ঠিকানা

এই ধাপে মুলত আপনার নিবন্ধন কার্যালয়ের ঠিকানা প্রদান করতে হবে। নিবন্ধন কার্যালয়ের ঠিকানা প্রদান করার জন্য যে পেইজটি এখন আপনার সামনে দেখাচ্ছে সে পেইজে পর্যায়ক্রমে আপনার দেশ, বিভাগ, জেলা ও উপজেলা সিলেক্ট করুন। এবার আপনি যদি পৌরসভার বাসিন্দা হয়ে থাকেন তাহলে আপনার ওয়ার্ড আর যদি ইউনিয়ন পরিষদের বাসিন্দা হয়ে থাকেন তাহলে আপনার ইউনিয়নের নাম সিলেক্ট করুন।


ধাপ -৪ঃ আবেদকারীর তথ্য প্রদান

এই ধাপে মূলত আবেদনটি যিনি করছেন তার তথ্য প্রদান করতে হবে। নিবন্ধন কার্যালয়ের ঠিকানা যথাযত ভাবে প্রদান করার পর নিচে দেখতে পাবেন “আবেদনকারীর তথ্য”। তার ঠিক নিচেই লিখা রয়েছে “আবেদনাধীন ব্যক্তির সহিত সম্পর্ক” এখানে বেশকিছু অপশন পাবেন। যেমনঃ পিতা, মাতা, নিজ, পিতামহ, পিতামহী, মাতামহ, মাতামহী, অভিভাবক, অন্যান্য। এই অপশন গুলোর কাজ হলো, যদি কোন ব্যক্তি নিজে আবেদন না করে তার হয়ে অন্য কেউ আবেদন করে, তাহলে তারা আবেদনাধীন ব্যক্তির সাথে তার সম্পর্ক নির্বাচন করবে। উদাহারণ সরুপ ধরে নিচ্ছি আপনার আবেদনটি আপনার বাবা কিংবা মা করছেন সেক্ষেত্রে বাবা হলে বাবা সিলেক্ট করবেন। মা হলে মা সিলেক্ট করবেন। কিন্তু আপনার আবেদনটি যদি আপনার বাবা-মা বা নিকট আত্মিয় ভিন্ন অন্য কেউ করেন। ধরে নিচ্ছি আপনার বন্ধু করছেন। সেক্ষেত্রে তিনি আবেদনাধীন ব্যক্তির সাথে সম্পর্কের ঘরে “অন্যান্য” সিলেক্ট করবেন। এরপর নিচে আবেদনকারীর নাম ঘরে আপনার নাম, আবেদনকারীর ঠিকানা ঘরে আপনার ঠিকানা, ফোন নাম্বার ঘরে আপনার ফোন নাম্বার ও ইমেইল ঘরে আপনার যদি ইমেইল থাকে তা প্রদান করবে।
এরপর একটু নিচে জন্ম নিবন্ধন নাম্বার ঘরে আপনার বন্ধু তার নিজের জন্ম নিবন্ধন নাম্বার ও জাতীয় পরিচয় পত্রের নাম্বার ঘরে তার নিজের ভোটার আইডি কার্ড নাম্বার প্রদান করবেন।


আর যদি আপনি নিজেই আপনার আবেদনটি করে থাকেন তাহলে “নিজ” সিলেক্ট করুন। নিজ সিলেক্ট করার পর নিচের ঘরে দেখতে পাবেন আপনার নাম ঠিকানা দেখাবে। যদি না দেখায় সেক্ষেত্রে আবেদনকারীর নাম ঘরে আপনার নাম, আবেদনকারীর ঠিকানা ঘরে আপনার ঠিকানা, ফোন নাম্বার ঘরে আপনার ফোন নাম্বার ও ইমেইল ঘরে আপনার যদি ইমেইল থাকে তা প্রদান করুন। না থাকলে দেওয়ার দরকার নেই। 
এবার আপনার যাবতীয় তথ্য আরেকবার চেক করে নিন। যদি সব তথ্য ঠিক থাকে তাহলে নিচের দিকে ডান কোনায় থাকা সাবমিট বাটনে ক্লিক করুন। 


মনে রাখবেন যে ইউনিয়ন পরিষদ বা পৌরসভা সিলেক্ট করেছেন সেখান থেকেই কিন্তু আপনাকে আপনার ডিজিটাল জন্ম সনদটি কালেক্ট করতে হবে।
সাবমিট এ ক্লিক করলেই নিচের পেইজের মত একটি পেইজ দেখতে পাবেন, যাতে দেখতে পাবেন আপনার আবেদনটি সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে দাখিল হয়েছে। এবার দেখুন আপনাকে একটা আবেদন পত্রের নাম্বার প্রদান করা হয়েছে, নাম্বারটি সংরক্ষণ করুন। 

ধাপ -৫ঃ আবেদনপত্র প্রিন্ট ও ডাউনলোড

এবার নিচে সবুজ রঙ্গের “আবেদনপত্র প্রিন্ট” নামের যে অপশন দেখতে পাচ্ছেন তাতে ক্লিক করুন। 


ক্লিক করলে নিচের ছবির মত আপনার আবেদন পত্রটি দেখাবে এবার সেটি PDF আকারে সেভ করে নিন এবং প্রিন্ট করে আপনার ইউনিয়ন বা পৌরসভার নিবন্ধকের কার্যালয়ে নিয়ে যাবেন। 


নিয়ে গেলে তারা আপনার আবেদন পত্রটিতে প্রয়োজনীয় সিল ও স্বাক্ষর প্রদান করবেন। এরপর নির্দিষ্ট কিছু ফি প্রদান করে আপনার আবেদন পত্রটি তাদের কাছে জমা দিন। তারা আপনাকে বলে দিবে আপনার ডিজিটাল বা অনলাইন জন্ম নিবন্ধনটি কখন প্রদান করা হবে। তাদের বলে দেওয়া তারিখে গিয়ে আপনার ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধনটি সংগ্রহ করুন। 

সম্মানিত পাঠক এই ছিল আমাদের আজকের আয়োজন। আসা করি বুঝতে পেরেছেন কিভাবে আপনি ঘরে বসেই আপনার অ্যানালগ বা হাতে লেখা জন্ম সনদটি ডিজিটাল জন্ম সনদে রুপান্তরের আবেদন করবেন। সময় নিয়ে আর্টিক্যালটি সম্পূর্ণ পড়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। আর্টিক্যালটি পড়ে উপকৃত হলে আপনার পরিচিতদের মাঝে শেয়ার করতে ভুলবেন না। সবার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে এখানেই শেষ করছি। “আল্লাহ হাফেজ”

আরো পড়ুন ঃ

أحدث أقدم

Post top ads

Ads Section