কোনো অ্যাপ ছাড়াই হোয়াট্সঅ্যাপ লক করুন
সম্মানিত পাঠক, আস্সালামুআলাইকুম। আশা করি ভাল আছেন।
বর্তমান সময়ে WhatsApp খুব জনপ্রিয় একটি যোগাযোগ মাধ্যম। যার সাহায্যে ব্যক্তিগত যোগাযোগের পাশাপাশি অফিসিয়াল যোগাযোগ বা অফিসিয়াল তথ্য আদান-প্রদানও হচ্ছে। এমনকি খুব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও নথিপত্রও এখন হোয়াট্সঅ্যাপের মাধ্যমে আদান-প্রদান করা হচ্ছে। তাই আমরা অনেকেই হোয়াট্সঅ্যাপের নিরাপত্তা নিয়ে কিছুটা চিন্তায় থাকি। বিশেষ করে কারো হাতে মোবাইল দেওয়ার পূর্বে আসা করি যেন সে হোয়াট্স অ্যাপে প্রবেশ না করে। কারণ হোয়াট্সঅ্যাপে এমন কিছু তথ্য থাকে যা আমরা সবার সাথে শেয়ার করতে চাই না। তাই আজকে অন্য কোন অ্যাপ ইন্সটল না করে WhatsApp লক করার এমন দুইটি উপায় সম্পর্কে আলোচনা করব যার সাহায্যে খুব সহজেই আপনাদের WhatsApp লক করে রাখতে পারবেন। লক করার পর কেউ আপনার মোবাইল হাতে নিলেও আর সমস্যা নেই, কেননা এখন যে কেউ চাইলেই আপনার হোয়াট্সঅ্যাপ একাউন্টে প্রবেশ করতে পারবেন না।
হোয়াটসঅ্যাপ লক করার সুবিধা:
- হোয়াটসঅ্যাপ লক থাকলে, আপনার ফোন অন্য কারো হাতে গেলেও তারা আপনার মেসেজ, ছবি, ভিডিও, এবং অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্য দেখতে পারবে না।
- ফিঙ্গারপ্রিন্ট, পিন, অথবা প্যাটার্ন লক ব্যবহার করে আপনি অন্যদের হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করা থেকে বিরত রাখতে পারেন।
- যদি আপনি ব্যবসায়িক কাজের জন্য হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করেন, গুরুত্বপূর্ণ ক্লায়েন্ট তথ্য বা আর্থিক তথ্য লক করে রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
- লক থাকলে, ম্যালওয়্যার বা হ্যাকারদের আপনার হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করা কঠিন হয়ে পড়ে।
- লক থাকলে, ফোন লক খোলা না থাকলে কেউ ভুল করে মেসেজ পাঠাতে পারবে না।
- পিতামাতারা তাদের সন্তানদের হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারের উপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে এবং অনুপযুক্ত বিষয়বস্তু থেকে তাদের সুরক্ষিত রাখতে লক ব্যবহার করতে পারেন।
- লক থাকলে, আপনি নিয়মিত হোয়াটসঅ্যাপ চেক করা কমিয়ে আপনার মনোযোগ অন্য কাজে স্থির রাখতে পারেন।
- লক থাকলে, অ্যাপ্লিকেশনটি ব্যাকগ্রাউন্ডে চলতে পারবে না, যার ফলে ব্যাটারি সেভ হতে পারে।
মোটকথা: হোয়াটসঅ্যাপ লক ব্যবহার করে আপনি আপনার ব্যক্তিগত তথ্য গোপন রাখতে পারেন, নিরাপত্তা বৃদ্ধি করতে পারেন এবং আপনার হোয়াটসঅ্যাপ অভিজ্ঞতা আরও ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন।
নিম্নে প্রদত্ত ২টি উপায়ে আপনার হোয়াট্সঅ্যাপ লক করুন।
উপায় -১ঃ টু স্টেপ ভেরিফিকেশন
আপনার হোয়াট্সঅ্যাপ একাউন্টে two step verification lock চালু করার জন্য শুরুতেই আপনার হোয়াট্স অ্যাপ একাউন্টে লগইন করুন। এবার উপরের ডানকোনায় থাকা 3 ডট আইকনে ক্লিক করুন।
ক্লিক করলে Settings নামক একটি অপশন দেখতে পাবেন, অপশনটিতে ক্লিক করুন।
ক্লিক করার পর দেখুন Accounts নামক একটি অপশন রয়েছে, অপশনটিতে ক্লিক করুন।
ক্লিক করার পর দেখুন two-step verification নামক একটি অপশন দেখাচ্ছে। অপশনটিতে ক্লিক করুন।
ক্লিক করার পর নিচের দিকে দেখুন Turn on নামক একটি অপশন দেখাচ্ছে, অপশনটিতে ক্লিক করুন।
ক্লিক করার পর ৬ ডিজিটের একটি পিন নাম্বার দিতে বলা হবে। ৬ ডিজিটের একটি পিন নাম্বার দিন, মনে রাখবেন এই পিনটি দিয়েই কিন্তু এখন থেকে লগইন করতে হবে। তাই যেই পিন নাম্বারটি দিচ্ছেন সেটি মনে রাখুন ও অন্যদের সাথে শেয়ার করা থেকে বিরত থাকুন। এবার কনফারমেশনের জন্য পিন নাম্বারটি আবার দিন। এবার Save নামক একটি বাটন আসবে, বাটনটিতে ক্লিক করুন। ক্লিক করার পর একটি ইমেইল আইডি খুঁজবে। আপনি চাইলে ইমেইল আইডি দিতে পারেন, নাও দিতে পারেন। তবে দেওয়াই ভাল, কেননা আপনি যদি আপনার পিন নাম্বারটি ভুলে যান তাহলে এই মেইলের মাধ্যমেই আপনার একাউন্টটি পুনঃরুদ্ধার করতে পারবেন। তাই আমার পরামর্শ হবে, ইমেইল আইডি যোগ করুন। ইমেইল যোগ করার জন্য নিচের ছবিতে প্রদর্শিত Add Email বাটনে ক্লিক করুন। আর আপনি যদি ইমেইল আইডি দিতে না চান তাহলে Skip নামক বাটনে ক্লিক করুন।
Skip নামক বাটনে ক্লিক করলে two step verification চালু হয়ে যাবে। আর Add email বাটনে ক্লিক করলে নিচের ছবির মত একটি পেইজে নিয়ে যাওয়া হবে। উপরের দিকে খালিঘরে আপনার ইমেইল এড্রেস দিন। দেওয়ার পর নিচে থাকা Next বাটনে ক্লিক করুন।
ক্লিক করলে tow step verification অপশনটি চালু হয়ে যাবে। এখন ব্যাক দিয়ে হোয়াট্স অ্যাপ থেকে বের হয়ে যান। আবার হোয়াট্সঅ্যাপ ওপেন করুন। এবার দেখবেন আগের মত আর ওপেন করা যাচ্ছে না। ২ স্টেপ ভেরিফেকেশন কোডটি দিতে বলছে। একটু আগে যে কোডটি সেটআপ করেছিলেন সেটি দিন। দেখবেন লগইন হয়ে যাবে। যেহেতু আপনার কোডটি অন্য কেউ জানে না, তাই আপনার মোবাইল হাতে পেলেও কেউ আর আপনার হোয়াট্স অ্যাপে লগইন করতে পারবে না।
উপায় -২ঃ ফিঙ্গার প্রিন্ট
এই অপশনটি চালু করার জন্য আপনার হোয়াট্স অ্যাপ একাউন্টে প্রবেশ করুন। উপরে ডান কোনায় থাকা 3 ডট আইকনে ক্লিক করুন।
ক্লিক করলে Settings অপশন পাবেন তাতে প্রবেশ করুন।
এবার Privacy অপশনে ক্লিক করুন।
ক্লিক করার পর নিচের দিকে স্ক্রল করুন Fingerprint lock নামক একটি অপশন পাবেন। অপশনটিতে ক্লিক করুন।
ক্লিক করলে নিচের ছবির মত একটি পেইজ ওপেন হবে। এই পেইজে নিচের ছবিতে তির চিহ্নটি যে বাটনকে নির্দেশ করছে সেই বাটনে ক্লিক করুন।
ক্লিক করার পর আপনার ফিঙ্গার প্রিন্ট করতে বলবে। ফিঙ্গার প্রিন্ট ডিভাইস বা স্ক্যানারে আপনার আঙ্গুল রেখে ফিঙ্গার প্রিন্ট করে নিন।
এবার দেখুন অপশনটি চালু হয়ে যাবে। কিন্তু নিচে দেখুন তিনটি অপশন দেখাচ্ছে। প্রথম অপশনে রয়েছে Immediately যার বামপাশে বর্তমানে সবুজ ডট দেখাচ্ছে, অর্থাৎ অপশনটি এখন সিলেক্ট করা রয়েছে। এই অপশনটির মানে হলো আপনার হোয়াট্সঅ্যাপ থেকে বের হওয়ার সাথে সাথেই আপনার হোয়াট্সঅ্যাপ একাউন্টটি ফিঙ্গার প্রিন্ট লক দ্বারা লক হয়ে যাবে। অর্থাৎ আপনার হোয়াট্সঅ্যাপ থেকে বের হওয়ার সাথে সাথে আবার প্রবেশ করতে চাইলে ফিঙ্গার প্রিন্ট দিতে হবে। কিন্তু যদি আপনি দ্বিতীয় অপশন After 1 minute সিলেক্ট করেন তাহলে আপনার হোয়াট্সঅ্যাপ থেকে বের হওয়ার পরবর্তী ১ মিনিটির মধ্যে যদি আবার প্রবেশ করতে চান তাহলে ফিঙ্গার প্রিন্ট দিতে হবে না। কিন্তু ১ মিনিটের বেশি সময় পর প্রবেশ করতে চাইলে ফিঙ্গার প্রিন্ট দিতে হবে। আর আপনি যদি চান আপনার হোয়াট্সঅ্যাপ একাউন্ট থেকে বের হওয়ার পরবর্তী ৩০ মিনিটের মধ্যে যেন ফিঙ্গার প্রিন্ট না খুজেঁ তাহলে তিন নাম্বার অর্থাৎ After 30 minutes অপশনটি সিলেক্ট করুন।
এবার ব্যাক দিয়ে বের হয়ে আসুন ও পুনরায় আপনার হোয়াট্স অ্যাপ ওপেন করুন। দেখবেন ওপেন হওয়ার আগে ফিঙ্গার প্রিন্ট দিতে বলছে।
আপনার আঙ্গুল ফিঙ্গার প্রিন্ট স্ক্যানারের উপর রেখে ফিঙ্গার প্রিন্ট করে নিন। দেখবেন লগইন হয়ে যাবে। এভাবে আপনারা খুব সহজেই আপনাদের হোয়াট্সঅ্যাপ একাউন্ট লক করে রাখতে পারবেন।
কিছু প্রশ্নঃ
প্রশ্নঃ ২ স্টেপ ভেরিফিকেশন ও ফিঙ্গার প্রিন্ট লক, দুইটির মধ্যে কোনটি বেশি কার্যকর?
উত্তরঃ ফিঙ্গার প্রিন্ট। কারণ ২ স্টেপ ভেরিফিকেশন প্রায় সময় কাজ করে না। কিন্তু ফিঙ্গার প্রিন্ট ঠিকমত কাজ করে।
প্রশ্নঃ ২ স্টেপ ভেরিফিকেশন ও ফিঙ্গার প্রিন্ট লক, দুইটি কি একই সাথে চালু করা যাবে?
উত্তরঃ হ্যা, যাবে। কিন্তু একই সাথে দুইটি লক সিস্টেম চালু করার প্রয়োজন নেই। যেকোন একটি চালু করলেই হবে।
প্রশ্নঃ ফিঙ্গার প্রিন্ট লক থাকা অবস্থায় কি কল রিসিভ করা যাবে?
উত্তরঃ হ্যা, যাবে।
সম্মানিত পাঠক, এই ছিল আমাদের আজকের আয়োজন। আসা করি বুঝতে পেরেছেন কিভাবে আপনার হোয়াট্সঅ্যাপ একাউন্ট লক করার জন্য 2 step verification ও Finger print লক চালু করবেন। সময় নিয়ে আর্টিক্যালটি সম্পূর্ণ পড়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। আর্টিক্যালটি পড়ে উপকৃত হলে আপনার পরিচিতদের মাঝে শেয়ার করতে ভুলবেন না। সবার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে এখানেই শেষ করছি। “আল্লাহ হাফেজ”

1.jpg)
2.jpg)
3.jpg)
4.jpg)
5.jpg)
6.jpg)
7.jpg)
1.jpg)
2.jpg)
9.jpg)
10.jpg)
11.jpg)
12.jpg)
13.jpg)
14.jpg)